1. admin@dailyhumanrightsnews24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুরে লাখ টাকার মাদকদ্রব্য সহ হিজড়া গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে সময় টিভির ১৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত। বোরহানউদ্দিনে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু শ্বশুর বাড়িতে জামাইয়ের গলায় দড়ির ফাঁসি জগন্নাথপুরে মারামারি মামলার ৭ আসামী গ্রেপ্তার উপজেলা নির্বাচনের বাতাস বইছে পঞ্চগড় জেলা জুড়ে উপজেলা নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে নুরুল হুদা জগৎপুর আশ্রমের ১২৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর ঢোলবাদন জগন্নাথপুরে সোনালী ফসল বোরোধান কাটা শুরু , কৃষক- কৃষাণীর মূখে হাসি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে সন্তান রফিকুল ইসলাম ( মিটু )।

অপরাধের স্বর্গরাজ্য সুরমা পাড়ের ওয়াকওয়ে

  • আপডেট সময় : বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩
  • ১৩৯ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ 

নিরিবিলি হাটাচলা, পরিবার পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর নিরাপদ স্থান হিসেবে শহরবাসীর জন্য নান্দনিক করে গড়ে তোলা হয় সুরমা নদীর দুই পাড়। বিভিন্ন ছড়া উদ্ধার করে ইউরোপের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে অনেকগুলো সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন ধোপাদিঘী পাড় ওয়াকওয়ে, রোজভিউ সংলগ্ন উপশহর ওয়াকওয়ে, জল্লারপাড় ওয়াকওয়ে, গোয়াবাড়ি ওয়াকওয়ে, বালুচর ওয়াকওয়ে, সাগরদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ে ও সুরমা নদীর দৃষ্টিনন্দন দুই পাড় নগরবাসীকে এর-ই মধ্যে আকৃষ্ট করেছে।

শুরুতে ওইসব স্থাপনায় গাছপালা লাগিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হলেও বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে। কোনো কোনো ওয়াকওয়ে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ও ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দৃষ্টিনন্দন এসব স্থানে বিচরণ করছে অন্ধকার জগতের বাসিন্দারা। ২০১৬ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিতের আহ্বানে ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে সুরমা নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ পুরাতন কারাগারের স্থলে গ্রীণপার্ক নির্মাণ, নগরীতে গ্রীণ সড়ক, ও অত্যাধুনিক পাঁচটি গোলচত্বর নির্মাণ ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বাস্তব রূপ হচ্ছে সিলেট নগরীর ওয়াকওয়ে প্রকল্প। সিলেট শহরের ওয়াকওয়ের মধ্যে ধোপাদিঘী ওয়াকওয়ে সবচেয়ে নান্দনিক। এটি ভারত সরকারের ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়নে নির্মিত হয়।ধোপাদিঘীর পাড়ের সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য গ্রহণ করা হয় ‘ধোপাদিঘী এরিয়া ফর বেটার এনভায়মেন্ট এন্ড বিউটিফিকেশন’ প্রকল্প।

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান `ডালি কনস্ট্রাকশন’ এ প্রকল্পটিও বাস্তবায়নে কাজ করে। ধোপাদিঘী ওয়াকওয়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে সেখানে ঘুরতে যেতেন। বর্তমানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাব থাকায় এখন আর স্বপরিবারে কাউকে তেমন একটা ঘুরতে দেখা যায় না। সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে গোয়াবাড়ি ওয়াকওয়ে। সুপ্রশস্ত ওয়াকওয়েটি তারাপুর চা বাগান লাগোয়া এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বাগানের সৌন্দর্যরূপ সহজে অবলোকন করা যায়। প্রাকৃতিক ও নিরিবিলি পরিবেশ, পাখির কলকাকলিতে বিমোহিত করে প্রকৃতিপ্রেমীদের। ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কালিবাড়ি ছড়ার ওপরে নির্মাণ করা হয় গোয়াবাড়ি ওয়াকওয়ে। এটির দৈর্ঘ্য ১ কিলোমিটার। সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার এলাকার পাশে জল্লারপাড় ওয়াকওয়ে দিনের চেয়ে রাতে বেশি সুন্দর লাগার কারণে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে সময় কাটাতে দেখা যায়। জল্লারপাড় ওয়াকওয়ের আশপাশ ইজারা দেওয়ার কারণে ওয়াকওয়েতে পর্যাপ্ত আলো ও বেশ কিছু খাবারের দোকান রয়েছে।৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০০ ফুট দীর্ঘ জল্লারপাড় ওয়াকওয়েটিও নির্মাণ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এছাড়াও রোজভিউ সংলগ্ন উপশহরে ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্য ওয়াকওয়ে নির্মাণে ব্যয় হয় ১০ কোটি। ৩০০ মিটার লম্বা বালুচর ওয়াকওয়ে তৈরিতে ৩ কোটি টাকা, সাগরদিঘীরপাড়ে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ওয়াকওয়ে তৈরিতে খরচ হয় ১ কোটি টাকা ও হলদীছড়ায় ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ওয়াকওয়ে তৈরিতে ১ কোটি টাকা ব্যয় হয়। লন্ডনের টেমস রিভারের আদলে তৈরি সুরমা নদীর দুই পাড়কে নান্দনিক রুপ দিতে বসানো হয় বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্ট ও বড়বড় টপের মধ্যে বাহারি ফুল গাছ। ওয়াকওয়ে গুলোতে গাছপালা, পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো সহ আনুষঙ্গিক অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। তবে যে সব ওয়াকওয়েতে বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ উঠেছে সে গুলো নিম্নমানের হওয়ায় স্থাপনের কয়েকমাস পর অধিকাংশ বাতি জ্বলছে না, কোনোটি ছুটে পড়ে গেছে। ফলে ওয়াকওয়ের বেশিরভাগ স্থান সন্ধ্যার পর থেকে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সুরমা নদীর পাড়ে বসানো ল্যাম্পপোস্ট ও বড়বড় ফুলের টবের অস্তিত্ব এখন আর নেই। সার্কিট হাউজের সামনে দৃষ্টিনন্দন বিশ্ব গোলকের ফোয়ারা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সিসিকের বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি না থাকায় দিনের বেলা বখাটে, ছিনতাইকারী ও রাতের বেলায় মাদক সেবনকারীদের অবাধ চলাফেরা ওইসব স্থানে বেড়েছে। স্কুল-কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ধোপাদিঘী পাড়সহ ওয়াকওয়ে গুলোতে টিনেজ তরুণ-তরুণীদের বেহায়াপনা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে গিয়ে অনেকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে চক্ষুলজ্জায় ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার স্বপরিবারে ঘুরতে অনিরাপদ বোধ করায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সে সব ওয়াকওয়ে গুলো থেকে। ইদানীং ওয়াকওয়েগুলো টিকটকারদের শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।  পাশ্চাত্যের পোশাক পড়ে টিকটকের শুটিং হচ্ছে ওইসব স্থানে। স্কুল-কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা আড্ডা ও নোংরামি কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। অন্ধকার জগতের বাসিন্দাদের বিচরণও চোখে পড়ার মতো। অধিকাংশ ওয়াকওয়েতে সন্ধ্যার পর ছিনতাই`র ঘটনা ঘটছে। মাদকসেবী ও অপরাধীদের অবাধ চলাফেরার কারণে ওয়াকওয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা যায়।এদিকে সার্কিট হাউজ সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়, গোয়াবাড়ি, বালুচর, সাগরদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ে এবং রোজভিউ সংলগ্ন উপশহর ওয়াকওয়ে এখন মাদকসেবী, ছিনতাইকারীসহ নানা অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।নগরবাসীর অনেকের প্রশ্ন- দেখভাল না করে ফেলে রাখার জন্য কি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক তদারকি ও নিরাপত্তার অভাব থাকায় সানন্দে হাটাচলা ও মন খোলে ঘুরে বেড়াতে পারছে না নগরবাসী। গত ২৩ মে রাতে ধোপাদিঘীর পাড় ওয়াকওয়ে থেকে এক কলেজ শিক্ষার্থী  অপহৃত হয়। যদিও পুলিশ ওই কিশোরকে পরে উদ্ধার করে ও অপহরণকারী ৩ জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছিল মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করার জন্য কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়। সবুজ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন ধোপাদিঘীর দুই পাড়ে দুটি মসজিদ রয়েছে। একটি মসজিদ থেকে পুরো ধোপাদিঘীর পাড় দেখা যায়। অধিকাংশ সময় চোখে পড়ে কম বয়সী ছেলেমেয়েরা জোড়ায় জোড়ায় বসে গল্প করছে কেউ বা বেহায়াপনায় লিপ্ত। দুই মসজিদের মধ্যখানে চলা পাপাচার বন্ধ করার যেনো কেউ নেই। ঈমানী দায়িত্ব থেকে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার প্রয়োজনে সেখানে লোকবল নিয়োগ দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষে তিনি আহবান জানান।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান দৈনিক স্বাধীনবাংলা পত্রিকা কে বলেন, চিঠি দিয়ে পুলিশ কমিশনারকে বলবো ওয়াকওয়েতে পুলিশের টহল বাড়ানোর জন্য। আর সিসিকের  সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বলে দিচ্ছি অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানগুলোতে লাইট স্থাপন ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park