1. admin@dailyhumanrightsnews24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শমশেরনগর হাসপাতালে যুক্ত হলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী তিন সফল নারী শমশেরনগর হাসপাতালে যুক্ত হলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী তিন সফল নারী নেত্রকোনার ৩ উপজেলাতেই নতুনরা নির্বাচিত রানীগঞ্জ -হলিকোনা সড়কের করুন দশা, জনগণের ভোগান্তি জগন্নাথপুরে প্রভাষক মাওলানা মোঃ তরিকুল ইসলাম এর যুক্তরাজ্য গমন উপলক্ষে বিদায়ী সংবর্ধনা জমে উঠেছে লংগদু উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, প্রচারনায় ব্যস্ত প্রার্থীরা নড়াইলে পূর্বশত্রুতার জেরে নিলয় কে হত্যা,প্রধান আসামি সাকিল গ্রেফতার। জিলহজ্জ মাসের ফজিলত ও ইবাদত: গোপালগঞ্জের কাঠিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা,ঘের বাড়ি লুটপাট আহত- ৫ জগন্নাথপুরে ভিজিডি’র চাল বিতরণ সম্পন্ন

দুমকিতে গৃহবধূর গায়ে আগুন: প্রেমের বিয়ের পর শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্ব, মীমের নির্মম পরিণতি

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩
  • ২৩৯ বার পঠিত
মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন, দুমকী উপজেলা প্রতিনিধিঃ
সাতানী আমীরউদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেই প্রিন্স ও মীমের প্রেম। দুমকী জনতা কলেজে এসে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। শুরুর দিকে দুই পরিবারের অমত থাকলেও পরবর্তীতে প্রিন্স ও মীমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কিছুদিন ভালোভাবে কাটলেও সন্তান হবার পর থেকেই শুরু হয় শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্ব, পরবর্তীতে যা গড়ায় সালিস পর্যন্ত। একপর্যায়ে জুন মাসের ২ তারিখে প্রিন্স ও মীম শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে স্বামী প্রিন্সের সঙ্গে শাহজাহান দারোগার ভাড়া বাড়িতে ওঠার ছয় দিনের মাথায় হাত-পা বেঁধে আগুন দেয়া হয় মীমের শরীরে। তার সঙ্গে দগ্ধ হয় ছয় মাসের শিশু সন্তান জিসানও।
এরপর চিকিৎসার জন্য প্রথমে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তি হতে না পেরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেয়া অবস্থায় শুক্রবার (৯ জুন) বিকেলে মারা যান হালিমা আক্তার মীম। দগ্ধ শিশুসন্তান জিসান সংকটাপন্ন অবস্থায় সেখানে চিকিৎসাধীন।
গত ৮ জুন বিকেলে দুমকী উপজেলা প্রেসক্লাবের পেছনে শাহজাহান দারোগার ভাড়া বাড়ি থেকে হালিমা ও তার ছয় মাসের ছেলে জিসানকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় মীমের মামা ওমর ফারুক বাদী হয়ে দুমকী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নিহত গৃহবধূর শাশুড়ি পিয়ারা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ মীমের শাশুড়ি পিয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণেই পরিকল্পিতভাবে মীমকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
নিহত হালিমা আক্তার মীমের বাড়ি দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সাতানী গ্রামে। পরিবারে এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে মীমই বড়। মীমের বাবা মজিবুর হাওলাদার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও পারিবারিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় মীম তার খালু লাল মিয়ার বাড়িতে থেকেই লেখাপড়া করতো।
মীমের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, মীম ও প্রিন্স একই এলাকার তবে মীম অনেক মেধাবী ছাত্রী ছিল, সে উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আর প্রিন্সও একই কলেজ থেকে অনার্স শেষ করেছে। প্রথমে দুই পরিবারই তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে না চাইলেও একপর্যায়ে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে হয়। বিয়ের চার বছরের সংসারজীবনে তাদের জিসান নামে একটি ছয় মাসের পুত্রসন্তান আছে।
এছাড়া তারা আরও বলেন, বিয়ের পর ভালোই ছিল তাদের সংসার। মূলত সন্তান জন্মের পর থেকেই বউ-শাশুড়ি দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস বৈঠক করা হয়েছে। সবশেষ ইউপি সদস্য সোহরাব হাওলাদারসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে গত ৩০ মে সালিস বৈঠকে প্রিন্স তার স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়ি ছেড়ে ভিন্ন জায়গায় বাসা নিয়ে বসবাস করতে বলা হয়েছে।
শাহজাহান দারোগার বাসার আরেক ভাড়াটিয়া জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাথরুমে কাপড় ধোয়ার সময় গোঙ্গানির শব্দ পেয়ে বাইরে এসে পাশের রুমের জানালা দিয়ে ধোয়া দেখতে পেলে বাইরে থেকে আটকানো দরজা খুললেই শাড়ি ও ওড়না দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ মীম গড়িয়ে বাইরে এসে পরলে সেখান থেকে তারা মীমকে উদ্ধার করে। এ সময় তার শিশুপুত্রের হাতসহ বিভিন্ন স্থান আগুনে ঝলসানো ছিল। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুজনকে দ্রুত বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তি হতে না পেরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেয়া অবস্থায় শুক্রবার (৯ জুন) বিকেলে মারা যান হালিমা আক্তার মীম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শাশুড়ি পিয়ারা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের পরিকল্পনায় ও যোগসাজশে দুজন বোকারা পরিহিত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা হালিমার ঘরে ঢুকে কাপড় দিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে চলে যায়।
মীমের স্বামী জামাল হোসেন প্রিন্সের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এইমাত্র স্ত্রীর লাশ নিয়ে আসছি জানাজা ও দাফন নিয়ে ব্যস্ত আছি। ছেলে এখনো সংকটাপন্ন। আমার মাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আসলে আমি এই মুহূর্তে কি বলবো বুঝতে পারছি না। তবে আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন হোক এটা চাই।
দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাশার জানান, তাদের পারিবারিক বিরোধ ছিল। এ জন্য কিছুদিন আগে তাদের আলাদা করে দেয়া হয়েছে তাই ঘর ভাড়া করে থাকা শুরু করেন। এ ঘটনায় শাশুড়ি পিয়ারা বেগমকে আটক করা হয়েছে আশাকরি ঘটনার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে
সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park