প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৯:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৪, ২০২৩, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে নিয়ে ডৌয়াতলা কলেজের অধ্যক্ষের স্মৃতিচারণ।

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে নিয়ে ডৌয়াতলা কলেজের অধ্যক্ষের স্মৃতিচারণ।
বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, কথা সাহিত্যিক ও লেখক সেলিনা হোসেন। তার উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবাদ সংকটের সামগ্রিকতা। বাঙালির গৌরব ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তার লেখায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার গল্প উপন্যাস ইংরেজি, রুশ, মেলে এবং কানাড়ি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
কথা সাহিত্যক সেলিনা হোসেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলার পুত্রবধু। ডৌয়াতলার আরেক কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খানের সহধর্মিণী তিনি। সেলিনা হোসেন ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। ডৌয়াতলা স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি।
হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো: সফিকুল ইসলাম সম্পর্কে সেলিনা হোসেনের ভাগ্নে। তার জন্মদিনে স্মৃতিচারণ করে বলেন- ' প্রখ্যাত কথা সাহিত্যক সেলিনা হোসেনের সুখ্যাতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি ছোট বেলা থেকেই দেখে এসেছি তিনি অত্যন্ত দৃঢ়চেতা, সৎ ও আদর্শবান একজন মানুষ। তিনি অত্যন্ত অতিথিপরায়নও। তিনি বাস্তববাদী মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক যা তার লেখনীর মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।'
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ ও ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’ -এর মতো জনপ্রিয় উপন্যাসের লেখিকা সেলিনা হোসেনের বহু উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ, কবিতাগ্রন্থ, শিশুতোষগ্রন্থ ও প্রবন্ধগ্রন্থ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি নারী অধিকার বিষয়ক বেশ কিছু প্রামাণিক ও গবেষণা রচনা ও সম্পাদনা করেছেন।'
তিনি আরও জানান- 'বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি দেশে-বিদেশে প্রচুর সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, কামার মুশতারি স্মৃতি পুরস্কার, ফিলিপস্ সাহিত্য পুরস্কার, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার, রামকৃষ্ণ জয়দয়াল এওয়ার্ড, সুরমা চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি থেকে প্রেমচাঁদ ফেলোশিপ ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি।'
অধ্যক্ষ অনেকটা দুঃখের স্বরে বলেন, তিনি (সেলিনা হোসেন) এলাকার পুত্রবধু। সে হিসেবে যথার্থ সম্মান পেয়েছেন কিন্তু যে মাপের (সম্মানের) মানুষ সেই সম্মান এলাকার মানুষ তাকে দিতে পারে নি। তার জন্য আমরা এই এলাকায় অনেক কিছু পেয়েছি। অনেকক গুলো প্রতিষ্ঠান হয়েছে। এই কলেজ (ডৌয়াতলা কলেজ) কয়েকবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হয়েছে, সবই সেলিনা হোসেনের অবদান। তিনি এলাকার মানুষের কাছে বিশেষ করে শিক্ষিত শ্রেনির কাছে সেলিনা হোসেনের যথার্থ মূল্যায়ন চান।'
অধ্যক্ষ সেলিনা হোসেনের জন্মদিনে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি যেন আরও এলাকায় শিক্ষার আলো দিয়ে আলোকিত করতে পারেন সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্পাদক
ও প্রকাশক : মোঃ আজির উদ্দিন সেলিম
Copyright © 2026 দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ. All rights reserved.