1. admin@dailyhumanrightsnews24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ১২:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নবীগঞ্জে জমে উঠেছে জমজমাট কোরবানীর পশুর হাট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে পরিচিত হওয়ার পথ সুগম করে গেছেন- দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহি উদ্দিন মৌলভীবাজার পৌরসভা কর্তৃক ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঈদ উপহার প্রদান ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শমশেরনগর হাসপাতালে লন্ডনের সুপরিচিত মুখ নোয়াখালী জেলার জেসমিন ফেরদৌস এর পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পৌর আওয়ামীলীগের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন । থেমে নেই ‘আমরা করব জয়’ সংস্থা প্রদান করে যাচ্ছে একটির পর একটি হুইলচেয়ার মৌলভীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে ওয়াইল্ডলাইফ অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্ম ও শিশু কানুন হাই স্কুলের পাশেই চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা জগন্নাথপুর বাস- মিনিবাস ও কোচ শ্রমিক পরিচালনা কমিটি কর্তৃক নগদ অর্থ বিতরণ মানিকগঞ্জে তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ বিষয়ক জনঅবহিতকরন সভায় গুজব তথ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান

জগন্নাথপুরে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, চলছে মাছ ধরা উৎসব, বন্যার আশংকা নেই

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩
  • ২৭ বার পঠিত

 

 

হুমায়ূন কবীর ফরীদি,স্টাফ রিপোর্টার

 

ঢল আর বৃষ্টিতে জগন্নাথপুরের নদ-নদী ও খাল-বিলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ জনসাধারণ মাছ শিকার উৎসবে মেতে উঠেছেন। হাট-বাজার গুলোতে দেশী প্রজাতির মাছের দেখা মিলেছে। এতে মাছের মূল্য ক্রয়-ক্ষমতার ভিতরে চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাত্র কয়দিন আগেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নদ-নদীর পানি তলানীতে থাকার পাশা-পাশি সবকটি ছোট-বড় হাওর -খাল-বিল ও ঝাওর পানি শূন্য ছিল। এরই মধ্যে বিগত দুই -তিন ধরে থেমে থেমে প্রবল বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে বর্ষার শুরুতে অর্থাৎ পহেলা আষাঢ় মাসে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা, ঢালিয়া, নলজুর, রত্না ও ডাউকা নদী সহ সবকটি ছোট-বড় নদ-নদীতে নতুন পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং হাওড়-বাওড় ও খাল-বিলে পানি প্রবেশ করছে। এতে করে বাঙালীর চিরচেনা রূপ বর্ষার নতুন পানিতে গ্রামীণ জনসাধারণ মাছ শিকার উৎসবে মেতে উঠেছেন। ১ লা আষাঢ় ১৪ ৩০ বঙ্গাব্দ, ১৫ ই জুন ২০২৩ ইংরেজি রোজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ও জানাযায়, ঢল আর বৃষ্টির পানিতে উপজেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে খালবিল ও হাওরে প্রবেশ করছে। নতুন পানিতে নদ-নদী, খাল-বিল ও হাওর -ঝাওরে ছিটকা জাল, টুনা জাল, পেলইন জাল ও টানাজাল সহ রকমারি জালের ফাঁদ পেতে উৎসব মূখর পরিবেশে দেশী প্রজাতির টেংরা, গইন্যা, পুঁটি, বোয়াল, কাইল্যা, পাবদা ও মলা-ঢেলা সহ বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় মাছ শিকার করছেন সৌখিন জনসাধারণ। নদীর পাড় আর খাল-বিলে মাছ শিকারস্থলে উৎসুক জনতার ভীর আর আনন্দের হৈ-হুল্লোর। এছাড়াও দিনমজুর মৎস্যজীবিরা নতুন পানিতে মাছ শিকার করে হাট-বাজারে কিংবা পথিমধ্যে সহশীল মূল্যে বিক্রি করছেন। এতে করে গ্রামীণ জনসাধারণ এর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এব্যাপারে সৌখিন মাছ শিকারী জুয়েল, আনকার, মুক্তি, শফিক আলী ও মুরাদ মিয়া সহ অনেকেই তাদের অভিপ্রায় ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন, অন্যান্য বছর এর মতো চলতি বছর যথাসময়ে বৈশাখ মাসের শেষের দিকে বর্ষার পানি না আসায় দেশী প্রজাতির মাছ শিকার করা দুরে থাক বাজারে ক্রয় করতে গিয়েও পাইনি। বিদেশী প্রজাতির মাছ এর মূল্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল। নতুন পানি আসাতে দেশী প্রজাতির মাছ শিকার করার পাশা-পাশি বাজার থেকে দেশী প্রজাতির আর বিদেশী প্রজাতির মাছ স্বল্প মূল্যে ক্রয় করতে পারছি। তৃপ্তি মিটিয়ে খেতে পারছি। যে হারে দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে দাম আর কমবে বলে ধারণা করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তারা আরো বলেন, মাছের পোনা জালে ধরা পড়লে ছেড়ে দিচ্ছি। যাতে করে অত্রাঞ্চলে দেশী প্রজাতির মাছ এর বংশ বিস্তার বৃদ্ধি পায়। কিছু রসনা বিলাসী মানুষ ও অধিক মুনাফা লোভী মৎস্যজীবি পোনামাছ নিধনে ঝাপিয়ে পড়েছে। তাই দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ এর বংশ বিস্তার রক্ষাকল্পে নদ-নদী, হাওর- বাওড় ও খাল-বিলে তদারকি করার জন্য স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।
এবিষয়ে মৎস্যজীবি ললিনী দাস,লালু দাস ও সুজন দাস সহ একাধিক মৎস্যজীবি বলেন, হাওরে ও নদীতে পানি থাকায় অতি কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। নতুন পানি আসাতে মাছ ধরতে পারছি। মাছ বিক্রি করে যা পাই তা দিয়ে কয়েক দিন ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে মোটামুটি ভালই চলছি। এক প্রশ্নের জবাবে তারা আরো বলেন, পোনামাছ আমরা শিকার করিনা। কারন পোনামাছ শিকার করলে মাছের বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা হেমন্ত মৌসুমে মাছ ধরতে পাবনা। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হবে। কিন্তু কিছু অধিক মুনাফালোভী মৎস্যজীবি পোনামাছ শিকার করে রসনা বিলাসীদের মধ্যে বিক্রি করছে। এ এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, দেশী প্রজাতির সুস্বাদু মাছের বংশ বিস্তার রক্ষাকল্পে নদনদী ও হাওরে প্রায়ই প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার পাশাপাশি ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছ শিকার এর অপরাধে অনেক জেলকে মৎস্য আইনে জরিমানাও করা হয়েছে । সকলকে মাছ শিকার এর ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে। যাতে করে পোনামাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছ শিকার না করেন। দেশী প্রজাতির মাছ এর বংশ বিস্তার রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢল আর বৃষ্টির কারণে সুরমা ও যাদু কাটা নদী সহ জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ১ শত ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১৫ জুন রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১শত ৬১ সেন্টিমিটার নীচ পর্যন্ত প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টির জন্য নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে বন্যার কোনো আশংকা নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park