
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের পূর্বাশা সিনেমা হল সংলগ্ন সড়কে
পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি
বাড়ছে ছোট-বড় হাজারো যানবহন চলাক ও পথচারীদের। অথচ এই পথ ধরে নওগাঁ জেলার
১১টি উপজেলার লোকজন সান্তাহার জংশন স্টেশনে চলাচল করেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত উপজেলার প্রথম পাকা সড়ক
‘সান্তাহার-নওগাঁ মেইন রোড’। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে পুরো নওগাঁ জেলার
লোকজন সান্তাহার জংশন স্টেশনে যাতায়াত করে থাকেন। চলাচল করে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী
ছোট বড় অসংখ্য যানবাহন। বর্তমানে সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট ব্রিজ থেকে
পশ্চিম ঢাকারোড পর্যন্ত দুই কিলোমিটারজুড়ে পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ
ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের উভয় পাশে পানি জমে থাকে। তবে এরমধ্যে
পূর্বাশা সিনেমা হলের সামনের অংশে প্রায় সাড়া বছরই পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
সেখানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
ইলিয়াছ মুন্সি নামের একটি ওয়ার্কসপ দোকানের মিস্ত্রি জানান, কয়েক বছর আগেও
বৃষ্টি হলে দু’এক দিনের জন্য সেখানে পানি আটকে থাকতো। এরপর নেমে গিয়ে
স্বাভাবিক হতো। বছর দু’য়েক আগে সড়কের উত্তরপাশ দিয়ে ড্রেন নির্মানের জন্য
খোঁড়াখুঁড়ি (গর্ত) করে রাখার কারনে সেখানে সারা বছরজুড়েই পানি জমে থাকছে।
গর্ত ভরাট করা বা ড্রেন নির্মাণ কিছুই হয়নি। শুধু দুর্ভোগ বেড়েছে। এখন পানি
অতিক্রম করে দোকান এবং সিনেমা হলে যেতে হয় বলে জানালেন মকছেদ আলী নামের এক
পথচারী।
দন্ত চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম জানান, চেম্বারের সামনেও পানি জমে থাকে। পানি
জমার কারনে অল্পদিনের মধ্যেই পাকাসড়কের কার্পেটিং ওঠে যায়। মাঝে মধ্যে সড়ক
বিভাগের লোকজন কিছু ইট এনে সড়কে চলাচল উপযোগী করে চলে যান। কিন্ত এতে
কোনো লাভ হয়না। সংস্কারহীন সড়কের পানিজমে থাকা অংশের ডানপাশের্^ কয়েকটি
শো-রোম, একটি সিনেমা হল, একটি বিদ্যালয় ও বামে টিএনটি অফিস সহ অসংখ্য
প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দ্রæত সড়কটি সংস্কার হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষক আবু সায়েম জানান, শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার সময় সড়কে জমে থাকা
পানি গায়ে ছিটে পড়ে জামা কাপড় নোঙড়া হয়ে যায়। এসব দুর্ভোগ দেখার কেউ
নেই।
সান্তাহার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম জানান, সড়কের দু’পাশে
পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ করার জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছিলো।
সান্তাহার পৌরসভার প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম রতন জানান, দুই বছর আগে নগর
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আমরা সড়কের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করতে চেয়ে বগুড়া
সড়ক বিভাগ বরাবর আবেদন করেছিলাম। কিন্ত তারা সড়কটি প্রসস্তকরণ কাজ করবে
মর্মে আমাদের অনুমোদন দেননি। তারপর থেকে সড়কের ওপর দিয়েই বৃষ্টির পানি গড়িয়ে
যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও এসব পানি আটকে থেকে কার্পেটিং ওঠে গর্ত সৃষ্টি
হচ্ছে।
জানতে চেয়ে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের
মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেন নি।
সম্পাদক
ও প্রকাশক : মোঃ আজির উদ্দিন সেলিম