
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি;
চাদিকে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় নেত্রকোনা জেলা জুড়ে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। সকাল থেকেই মিলছেনা রোদের দেখা।
মঙ্গলবার রাত থেকে কুয়াশার সাথে শীতল বাতাসের প্রভাবে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বুধবার সারাদিন জুড়ে হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল মাঝে মাঝে রোদের দেখা মিললেও সন্ধ্যা থেকে হিমেল হাওয়া বইতে থাকায় অনেক বেশি শীত অনুভূত হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নেই রোদের দেখা পাশাপাশি বইছে শীতল বাতাস।
সরেজমিন বারহাট্টা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখে গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা এবং কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। তীব্র শীতে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। এরপরও জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবীরা তীব্র শীত উপেক্ষা করেই ঘর থেকে বের হয়ে যার যার কাজ করছেন।
বাজারের দোকানগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলেও চলছে বেচাকেনা। রাস্তায় যাত্রী কম থাকলেও হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে রাস্তা চলছে অটোরিকশা। তীব্র ঠান্ডায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেগেছে।
কাশবন গ্রামের কৃষক রবীন্দ্র সরকার জানান, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ কৃষিকাজ ছাড়া আমাদের কপালে খাবার জুটবে না। কৃষিই আমাদের একমাত্র সম্বল। তাই, তীব্র শীত উপেক্ষা করেই মাঠে কাজ করতে এসেছি। কাজ করতে করতে বেশি ঠান্ডা লাগলে, আমরা কৃষকরা সবাই একসাথে মিলে খড় দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে হাত-পা, শরীর গরম করে আবার নিজ নিজ কাজে লেগে যাই।
তীব্র ঠাণ্ডা শৈত্যপ্রবাহের কারণে শ্বাসকষ্টসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। দুর্ভোগ বেড়েছে গবাদিপশু নিয়েও।
নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে ভীষণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ঘন কুয়াশার কারণে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।
শীতের শুরুতে নেত্রকোনায় হালকা গরম কাপড় পরলেও মঙ্গলবার থেকে অনেককেই ভারি গরম কাপড় পরে বাইরে বেরিয়েছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ায় গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে সবশ্রেণির মানুষের। রাস্তার পাশে গরিব মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যায়।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা জেলার তাপমাত্রা গতকাল (বুধবার) থেকে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগামী দুইদিন শীত একটু বাড়বে। প্রকৃতিতে থাকবে শীতের সাথে হালকা বাতাস।
তারা আরও জানান, দিনের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রিতে থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কমে ১২.২ বয়ে যাচ্ছে।
সম্পাদক
ও প্রকাশক : মোঃ আজির উদ্দিন সেলিম