
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি;
নেত্রকোনার মদনে গোবিন্দশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মারুফ নামের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী মারুফ গোবিন্দশ্রী গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে এবং গোবিন্দশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে সে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দশ্রী গ্রামের রাজ্জাক মিয়ার ছেলে রাকিব তার বন্ধুদের নিয়ে গোবিন্দশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রতিদিন রাস্তায় উত্ত্যক্ত করে। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে রাকিব ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় ছাত্রীর সহপাঠী রাফি প্রতিবাদ করে। এ সময় রাকিব তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে রাফিকে মারধর করে। মারধরের বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে রাফিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পরই রাকিব তার সঙ্গীসাথীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। হামলায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ মাথা ফেটে আহত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
গোবিন্দশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এমদাদুল হক জানান, আমাদের স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানালে মাদ্রাসার ছাত্র রাকিব ও তার সঙ্গী ইলিয়াস, রাব্বিসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসহ বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। তখন তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে মারুক নামের এক ছাত্রের মাথা ফেটে যায়। তখন ইলিয়াস নামের এক ছেলেকে আমি নিজে আটক করে ছিলাম কিন্তু তার হাতে অস্ত্র থাকায় ভয়ে আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি।
ভুক্তভোগী ছাত্রী জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে প্রতিদিন রাকিবসহ কয়েকজন আমাকে খুবই বিরক্ত করে। আমার সঙ্গে থাকা সহপাঠী রাফিকে চাপ দেয় আমার ফোন নাম্বার দেওয়ার জন্য। কিন্তু সে প্রতিবাদ করায় বিদ্যালয়ের সামনে তাকে মারধর করে। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। এখন আমি বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া নিয়ে আতঙ্কে আছি।
অভিযুক্ত রাকিব মিয়া বলেন, আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন রাফি ও তার বন্ধুরা আমাকে অহেতুক মারধর করে। পরে আমি ইলিয়াস ভাইকে নিয়ে ঘটনার মীমাংসা করতে বিদ্যালয়ের সামনে গিয়েছিলাম। পরে মারামারির ঘটনা ঘটে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল কান্তি সরকার জানান, মারামারির খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়। একজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক
ও প্রকাশক : মোঃ আজির উদ্দিন সেলিম