
হুমায়ূন কবীর ফরীদি, স্টাফ রিপোর্টারঃ
জগন্নাথপুর এর কলকলিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ লাইব্রেরী জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। চারপাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। চারদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পথচারী ও স্থানীয় জনসাধারণ স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন। ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও জনস্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানটি সংস্কার প্রয়োজন।
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে সুনামগঞ্জ জেলার অন্যান্য ইউনিয়ন এর ন্যায় বিগত ২০১৭ সালে এই জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া বাজারস্থ ১ নং কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর পুরাতন ভবনটিকে কলকলিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ লাইব্রেরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এবং ২০১৭ সালের ৬ ই অক্টোবর তৎকালীন অর্থ প্রতিমন্ত্রী জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ -৩ আসন এর বর্তমান এমপি আলহাজ্ব এম এ মান্নান এই প্রতিষ্ঠানটি শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন এর পর তিন/চার মাস উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক তদারকি করার পাশা-পাশি জগন্নাথপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল হক মাঝে মধ্যে ভবনটির দেখবাল করতেন। তবে ২৮ শে এপ্রিল রোজ রবিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ও জানা গেছে, বিগত প্রায় ৬ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। জাদুঘর ও লাইব্রেরীর জানালা গুলো ভেঙে গেছে। লাইব্রেরীর আলমারিতে সংরক্ষিত বই গুলো অরক্ষিত হয়ে ছড়িয়ে -ছিটিয়ে পড়ে আছে। উঠতি বয়সী শিশু -কিশোরেরা হরহামেশা জাদুঘর ও লাইব্রেরীর ভিতরে অনায়াসে প্রবেশ -বাহির হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠান এর বারিন্দা ও আঙ্গিনায় কাদা-পানিতে একাকার হওয়ার পাশা-পাশি ময়লা আবর্জনার স্তূপ রয়েছে। ময়লা আবর্জনা রোদে শুকে আর বৃষ্টিতে ভিজে ছাড় দিকে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে করে জগন্নাথপুর -তেলিকোনা (চন্ডিঢহর) সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ, পথচারী ও কলকলিয়া বাজার এর ক্রেতা- বিক্রেতারা স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ কারো কোনো প্রকার মাথা ব্যাথা নেই। এমনকি জাতীয় দিবস গুলোতেও এই প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিদায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -ঐতিহ্য রক্ষাকল্পে ও জনস্বার্থে এই প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান এর আশ-পাশ সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।
সম্পাদক
ও প্রকাশক : মোঃ আজির উদ্দিন সেলিম