
স্টাফ রিপোর্টার:
মিরপুর-১ থেকে ৬০ ফিট লেগুনার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে! অবৈধ লেগুনার বিরুদ্ধে ফিটনেস বিহীন বেশ কয়েকটি লেগুনা জব্দ করা হয়েছে, এতে সাধারণ পথচারি যেমন আশ^স্ত হয়েছেন, তেমনি তাদের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জিজ্ঞাসা, ‘অবৈধ লেগুনার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে কি?’
সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ ও ‘নিসচা’-সহ বিভিন্ন সংগঠনের দাবির মুখে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ১৭টি নির্দেশনা আসে। যে নির্দেশনাগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ওই নির্দেশনার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয় যে রাজধানীর মূল সড়ক ও রাজপথ গুলোতে লেগুনা চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার পর বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবারো অবাধে চলাচল শুরু করেছে এ সব অবৈধ যানগুলো। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক সকালের সময় পত্রিকা-সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় মিরপুর ডিভিশনে অবৈধ লেগুনার উপর নিউজ প্রকাশিত হয়। সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে অবৈধ লেগুনার ১৮ বছরের কম বয়সী অনেক ড্রাইভার, লাইনম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ-সহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অবৈধ লেগুনার চলাচলে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত হিসেবে সাধারণ জনগনের যেমন পুলিশের প্রতি অভিযোগ আছে তেমনি রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ধারী কিছু লোক ও জড়িত।
সরেজমিনে গত কয়েকদিনে দেখা যায়, নিউজ হওয়ার পরপরই অভিযানে মাঠে নামে ট্রাফিক পুলিশ। অভিযানে কোন গাড়ির ডাম্পিং, জরিমানা বা কি সাজা দেওয়া হয়েছে জানা যায় নি। মিরপুর ৬০ ফিটের লেগুনার লুকিং গ্লাস না থাকার কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা আহাঙ্কা থাকে, পুলিশ কয়েকটি গাড়ি আটক করে পুলিশ বক্সের সামনে নিয়ে আসে কিন্তু শেষ কিভাবে সমাধান করা হয়েছে তা জানা যায়নি।এদিকে মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনের ৬০ ফিটে লেগুনার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১০ দিনে এই অভিযানে মোট ৩০ টি লেগুনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, উক্ত এলাকার দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো:সোয়াইবুল ইসলাম বলেন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ড্রাইভার, লুকিং গ্লাস না থাকা,সামনে পিছনে নাম্বার প্লেট না থাকা,যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা করানো,যাএীর সাথে খারাপ আচরণ ইত্যাদি কারনে ব্যাবস্হা নেয়া হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ড্রাইভার মালিকদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তাদের সাথে সচেতনতা মূলক কয়েকটি সভা করেছে মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ।নিউজ হওয়ার পর পরই পুলিশ আমাদেরকে লুকিং গ্লাস লাগাতে বলেছে এবং ভাঙ্গাচুরা ফিটনেস বিহীন গাড়ি গুলো একটু দূরে রাখতে বলেছে।’ সন্ধ্যার পরও দেখা যায় এক লাইট জ্বালিয়ে কয়েকটি গাড়ি বীরদর্পে চলছে। ফিটনেসবিহীন, ভাঙ্গা-চোরা, লক্কড় ঝক্কড় গাড়ির সংখ্যাও কম নয়। একজন ড্রাইভার নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, সাংবাদিকরা নিউজ করলে আমাদের কষ্ট বাড়ে। আমাদের চাঁদার টাকা বেশি দিতে হয়, যেমনি পুলিশের উৎপাত বাড়ে তেমনি লাইন খরচ বেশী দিতে হয়। সরকার একটি নীতিমালা করে দিলে আমাদের এই লুকোচুরি খেলা আর খেলতে হতো না।
তার কথা শেষ না হতেই আরেক চালক কথা টেনে বলেন, স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাড়ি নামালেই চাঁদা দিতে হবে এটা মেনেই নিয়েছেন মালিকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লেগুনার মালিক জানান যে চাঁদাবাজদের সঙ্গে তাঁরা কোনভাবেই পেরে উঠতে পারছেন না। তাদের কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। ফলে আয় রোজগার ঠিক রাখতে মালিকরাও আর কোন প্রতিবাদ করেন না। সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যাবস্হাপনার লক্ষ্যে কাজ করছে মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ,লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভারের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যাবস্হা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
সম্পাদক
ও প্রকাশক : মোঃ আজির উদ্দিন সেলিম