
সালেহ আহমদ (স'লিপক):
মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল আদ্বহাকে ঘিরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জমে উঠেছে জমজমাট কোরবানীর পশুর হাট।
নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সালামতপুর, দিনারপুরের জনতার বাজার, ইনাতগঞ্জ সৈয়দপুর বাজার, নতুন বাজার, আউশকান্দি, কাজিগঞ্জ বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন হাটগুলো ক্রেতাদের পদচারণায় সরগরম থাকলেও দাম সাধ্যের বাইরে থাকায় অনেক ক্রেতাই দাম কমার অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে, দুই একদিনের মধ্যে ক্রেতারা কোরবানীর পশু কিনতে শুরু করবেন বলে মনে করছেন পশু বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ীরা।
নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সালামতপুরে পশুর হাটে কথা হয় ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে। অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি মনে করছেন এ হাটে আসা ক্রেতারা। লোক সমাগম অনেক হলেও বেচাবিক্রি জমে উঠেনি বলে জানালেন একাধিক বিক্রেতারা। ঈদ যত কাছে আসছে পশুর হাটের ভীড়ও ক্রমেই বেড়ে চলছে। শেষমুহুর্তে আরো বেশি ভীড় বাড়বে এবং রাতব্যাপী বেচাকেনা চলবে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও গরুর বাজার কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে বাজারগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণে কোনো যন্ত্র না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, গরু, ছাগল সহ বিভিন্ন পশুতে হাটগুলো পরিপূর্ণ। অন্য বছরের তুলনায় দাম বেশি থাকায় মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতাদের কোরবানীর পশু না কিনে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। তবে আরো কয়েক দিন অপেক্ষা করে কোরবানীর পশু কিনবেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। বাজারে দাম বেশি থাকায় অনেক বিক্রেতাকেও তাদের আমদানিকৃত গরু বিক্রি না করে ফিরিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে, ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তি ছোঁয়ায় আরো একধাপ এগিয়ে জমে উঠেছে পশুর হাট। অনেকেই স্মার্ট ফোনে ফোর-জি, থ্রি জি নেটওয়ার্কের আওতায় ইমো, স্কাইপি সহ বিভিন্ন অ্যাপস এর মাধ্যমে ভিডিও কলে বিদেশে অথবা বাড়িতে থাকা স্বজনদের গরু দেখাচ্ছেন এবং তারা ভিডিও কলে গরু দেখে পছন্দ করছেন। এ ছাড়াও অনেকেই গরুর ছবি তুলে হোয়াটস আপের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের শেয়ার করছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের মতিন মিয়া নামে এক বিক্রেতা জানান, সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় আংশিক বন্যার কারণে গরুর বাজারে দুরের মানুষজন আসতে না পারায় বাজারে অনেকটা ক্রেতা শুণ্যতা দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের আলম নামে এক ক্রেতা জানান, দেশীয় গরু কিনতে বাজারে এসেছি। দাম খুব বেশি তাই কোরবানীর গরু কিনতে হিমশিম খাচ্ছি। আগামী বাজারে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সালামতপুর বাজারে গরু বিক্রেতা সাবু মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে গরু লালন-পালন করেছি লাভের আশায়। যদি ভারতীয় গরু বাজারে না আসে তাহলে আমাদের দেশীয় গরুগুলোর ন্যায্যমূল্য পাবো বলে আশাবাদী।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান জানান, নবীগঞ্জে পশু কোরবানীর চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার ৫শত। উপজেলাব্যাপী লালন পালন করা হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি পশু। ক্রেতারা গরু কিনতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সম্পাদক
ও প্রকাশক : মোঃ আজির উদ্দিন সেলিম