আমিনুল ইসলাম, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
“মানব জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নয়, উন্নয়নের নামে ধ্বংস নয়, টেকসই সমাধান চাই” এ স্লোগানকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া গ্রামের মানুষ ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ‘বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্তদের ভূমি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে পাতিগ্রাম মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বড়পুকুরিয়া বাজার ঘুরে এসে সেখানে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে মিলিত হয়।
এ সময় তারা ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান। দাবি গুলো হলো, খনি এলাকায় কয়লা উত্তোলনের সময় বিস্ফোরণ ও কম্পনের কারণে ভূমি দেবে যাওয়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, ফাটল ধরা ঘরবাড়ি ও স্থাপনার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা নিতে হবে, খনি এলাকার বাইপাস সড়ক সংস্কার করতে হবে, সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে, অধিগ্রহণকৃত মসজিদগুলোর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাইরে দেখা দেওয়া পানি সংকট মোকাবিলায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে, ঘরবাড়িসহ অবকাঠামোর ফাটল জরিপ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কমিটির সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান, ইউপি সদস্য আ. কাদের, সাগির ইসলাম, আকাশ মাহমুদ, ফরাহাদ হোসেন প্রমুখ। এ সময় দুই গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, খনি এলাকায় বসবাস এখন আতঙ্কের আরেক নাম। বাড়িঘরে ফাটল ও কাঁপুনির কারণে রাতেও শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না তারা। দীর্ঘদিন আন্দোলন করেও প্রতিকার না পাওয়ায় তারা ভবিষ্যতে ‘খনি ঘেরাওসহ’ বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তালেব ফরাজি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শনাক্তে বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ (চাইনিজ ও বাংলাদেশি) একটি টিম নিয়মিত সার্ভে করছে। ইতিমধ্যে ১৩টি গ্রামের কাজ শেষ হয়েছে। সার্ভে রিপোর্ট পাওয়া গেলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। যদি ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলে, সেক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”##