
উমর ফারুক পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
উত্তরের অর্থনীতি বদলে দিতে উদ্বোধন করা হলো তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম হলরুমে পঞ্চগড়ে দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র উদ্বোধনী করা হয় ।
‘সমতলে চায়ের ভূবন, পঞ্চগড়ে স্বাগতম’ স্লোগানে স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যান্ড টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে , প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি , এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন , সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল আলম ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান। পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শেখ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, আনোয়ার সাদাত সম্রাট সহ আরও অনেকেই । এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আমরা অকশন সেন্টার করলাম কিন্তু চা চাষিরা লাভবান হলো না। তাহলেতো এই অকশন সেন্টার মূল্যহীন। চা চাষিরা যদি পাতার ন্যায্যমূল্য না পান তাহলে এক সময় চা চাষ বন্ধ হয়ে যাবে। সে কারণে অকশন সেন্টারের পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে কারখানাগুলো যেন পাতা ক্রয় করে এজন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চা চাষিদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্য পেতে হলে সঠিকভাবে পাতা চয়ন করতে হবে। বড় আকারের ডালপালাসহ পাতা কারখানায় দিলে চায়ের মান খারাপ হয়ে যায়। অকশনে মার্কেটে চায়ের দাম কম পাওয়া যায়। এজন্য মেশিন দিয়ে পাতা উত্তোলন করতে হবে। এতে করে সঠিকভাবে চা পাতা চয়ন করা যাবে। তবে একেকটি মেশিনের দাম আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে চা চাষিদের বিনামূল্যে মেশিন দেবো। এসব মেশিনের দেখে অন্য চা চাষিরাও উদ্বুদ্ধ হবেন। এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের মোট চা উৎপাদনের ৬৫ ভাগই উৎপাদিত হয় সিলেট অঞ্চলে। সেখানে চায়ের অকশন মার্কেট করতে সময় লেগেছে একশো বছর। আমরা উত্তরাঞ্চলের মানুষ সৌভাগ্যবান যে মাত্র ২০ বছরের মাথায় আজ পঞ্চগড়ে চায়ের অকশন সেন্টার উদ্বোধন করতে পারলাম । স্বাগত বক্তব্য দেন ল’ টি গার্ডেন ওনার্স অ্যান্ড টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সভাপতি আমিরুল হক খোকন। অনলাইন চা নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধনী দিনে ১৫ জন বিডারের অংশগ্রহণে সুপ্রিম টি লিমিটেডের উৎপাদিত দুইশো কেজি চা সর্বোচ্চ মূল্য ৫৪৩ টাকা দরে ক্রয় করে তেঁতুলিয়ার ভজনপুরের চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ।