
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি;
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে নেত্রকোনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নারীদের ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য নারীদের সচেতনতা বাড়াতে কেন্দ্রভিত্তিক টিম করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের জন্য কেন্দ্রভিত্তিক টিম করে মহিলা নেতাকর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, নেত্রকোনা জেলা মোট ১০টি উপজেলা এবং ৪টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা জেলায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ১৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫ জন।
জেলার ৫টি আসনে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপিসহ বিভিন্ন দল মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য পদের জন্য লড়ছেন। আগামী ৭ জানুয়ারি জেলায় মোট ৬৭৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান শেফালী বলেন, ‘গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরক্ষর ও স্বল্প শিক্ষিত নারী ভোটারই বেশি। সচেতনতার অভাবে নারী ভোটারের সিংহভাগই ভোটের দিন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোট কেন্দ্রে আসেন না।
তিনি আরও বলেন, আমরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলায় ৫০০ দলের প্রায় ৫ হাজার নারী নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের ভোটাধিকার নিয়ে সচেতনতা বাড়াচ্ছি।’
জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের টিমের সদস্য হায়েতেন্নেছা তৃষা বলেন, আমরা মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। ভোটাধিকার কেন গুরুত্বপূর্ণ তা ভোটারদের বোঝাচ্ছি। প্রথম প্রথম অনেকেই ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার কথা বললেও তাদের বুঝানোর পর এখন তারা বুঝতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি ভোটের দিন নারী ভোটারেরা দলবেঁধে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এবার নির্বাচনে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি হবে।
টিম সদস্য ফাহমিদা সুলতানা সাথী বলেন, ‘নারী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের বুঝানোর পর তাদের থেকে যে অনুভূতির প্রকাশ পাচ্ছি তা অসাধারণ। তাদেরকে বোঝানোর পর তারা নিজেদের ভোটের অধিকার বিষয়ে বুঝতে পারছেন। এতে করে নারী ভোটারদের থেকে ভাল সাড়া পাচ্ছি।’
অপরদিকে নারী ভোটাররাও বলছেন, তাদের বাড়ি বাড়ি টিম যাচ্ছে এবং তাদের নিজেদের ভোটাধিকার সম্পর্কে আলোচনা করছেন এতে তারা ভোট দিতে আগ্রহী।
সদরের তাতিয়র গৃহিণী সুফিয়া আক্তার বলেন, সকাল থাইক্কা (থেকে) শুরু করে সারাদিন আমার অনেক কাম (কাজ) করতে হয়। ভাবছিলাম কাজ ফালাইয়া (ফেলে)ভোট দিতে যাইতাম না। ওখন (এখন) ভাবতাছি (ভাবছি) নির্বাচনের দিন সকালেই কেন্দ্রে যাইয়া (গিয়ে) ভোট দিয়াম (দিব)।
একই কথা বললেন হাওরাঞ্চলের আরেক নারী অনিতা গোস্বামী। তিনি বলেন, পোলাপান (সন্তান) লইয়া হারাদিন সংসার টাইন্যাই পারি না। ভোট দেওয়ার সময়ই নাই। মহিলারা আইছিল হেরা (তারা) বুঝাইছে (বুঝিয়েছে) ভোটটার আনেক দাম। ওহন (এখন) ভাবতাছি (ভাবছি) ভোট দিতর যাইয়াম (যাব)। ভোটটা দিয়া আইয়াম (আসব)। যে আমারা ভালা-খারাপের সাথে থাহে (থাকে) তারেই ভোটটাই দিয়াম।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডিসি শাহেদ পারভেজ বলছেন, ‘ভোট কেন্দ্রে নারীদের ভোট প্রদান শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’