1. admin@dailyhumanrightsnews24.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আগারগাঁও ফুটপাত দখল : প্রশাসনিক এলাকার সড়ক এখন হকারদের কবজায়…. পথচারীদের নিত্য দুর্ভোগ  কেক বিক্রেতা জাকিরের দখলে পুরো রাস্তা, জনজীবন স্থবির সানন্দবাড়ী প্রেসক্লাবে কমিটি ঘোষণা  ফুলবাড়ীতে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে গেলেন এনসিপি’র এমপি প্রার্থী ডা. আহাদ বোয়ালখালীতে রাধা গোবিন্দ সেবা মন্দিরের উদ্যোগে শারদীয় দূর্গাপূজায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  ফুলবাড়ীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বোয়ালখালীতে একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢোলবাদক বিনয়বাঁশী জলদাসের ১১৪ তম জন্মদিবস পালিত দেওয়ানগঞ্জে বসুন্ধরা পত্রিকার ২০ বছরপূর্তি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত  রংপুর রিজিয়ন কমান্ডারের সরেজমিন পরিদর্শন, পূজা মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দশ লক্ষ টাকার নারিকেল বেচাকেনায় মুখর ফুলবাড়ী বাজার

নড়াইলে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৯৯ বার পঠিত

 

মো: আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার,

নড়াইল জেলার ৩ টি উপজেলায় মুঠোফোন অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। লোভে পড়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণেরা এই জুয়ায় বেশি আসক্ত হচ্ছেন। জুয়ার নেশায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সর্বস্ব হারাতে বসেছে তাঁদের অনেকেই। এ কারণে অনেকের বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নড়াইল জেলার কালিয়া,নড়াইল সদর উপজেলা ও লোহাগড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই জেলা,প্রত্যেকটা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ও শহরে এই জুয়া ব্যাপক হারে বিস্তার লাভ করছে। সহজে প্রচুর টাকা উপার্জনের লোভে পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষ এই জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। তরুণদের অনেকেই কৌতূহলবশত এই খেলা শুরুর পরেই আসক্ত হয়ে পড়ছেন নেশায়।

দেখা গেছে প্রথমে লাভবান হয়ে পরবর্তী সময় খোয়াচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এবিষয়ে জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা রাখার অনুরোধ সুশীল সমাজের মানুষের,

দেখা গেছে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের বাজার,চায়ের দোকান এবং গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ভিড় জমায় এসব জুয়ারীরা।

আরও দেখা গেছে মহাসড়ক সংলগ্ন গ্যারেজ ও চায়ের দোকান গুলোতে এসব জুয়া খেলা হয় নিয়মিত। তবে থানা পুলিশ প্রশাসনের এসব বিষয়ে কোনো ভূমিকা দেখা যায় না বলে জানা গেছে।

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্মার্টফোনে নির্ধারিত কয়েকটি অ্যাপস ডাউনলোড করে জুয়া খেলা করে তারা। এদের মধ্যে কয়েকজন জানান এ খেলা পরিচালনার জন্য এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন প্রতিনিধি। তাদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়। এদেরকে এজেন্ট বলে।

বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্ট জনেরা বলেন, স্মার্টফোনে এই জুয়া খেলে অনেকেই লাভবান হচ্ছে সাময়িক সময়ের জন্য। কিন্তু বেশিরভাগ জুয়াড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হারাচ্ছে সর্বস্ব। এটা বন্ধের জন্য ভূমিকা রাখা দরকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের।

বিভিন্ন নামের 1X সহ ৫ থেকে ১০ টির মতো অ্যাপসে সবচেয়ে বেশি জুয়া খেলা হয়। এসব অ্যাপসে ১০/২০ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের টাকা দিয়ে খেলা শুরু করা যায়।

নড়াইল জেলার কালিয়া, নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাজারেই রয়েছে এই ধরনের এজেন্ট। তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ বা প্রদান করে থাকে। এজেন্টরা বিদেশি অ্যাপস পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে হাজারে কমপক্ষে ৪০ টাকা কমিশন পায়। এজেন্টদের মাধ্যমেই টাকা পাচার হয় বিদেশে যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজ শিক্ষার্থী সহ অনেকেই বলেন, আমি প্রথমে এজেন্ট হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লাভবান হয়েছিলাম পরে নিজে খেলা শুরু করি এরমধ্যে R,15 একটা মোটরসাইকেল ও কিনি জুয়ার লাভের টাকায়। পরিশেষে সর্বস্ব হারিয়ে অনেক টাকা দেনা হয়ে এখন আমি পথে বসেছি।

এবিষয়ে লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অনিমেষ বিশ্বাস এর সাথে কথা হলে তিনি জানান প্রশাসনিকভাবে এগুলো আমরা সব সময় তদারকি করি । আমাদের সামনে এরকম কেউ পড়লে প্রথমে তাকে আটক করা হয়। এর পর তাদের অভিভাবকদের এনে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এখানেই শেষ না এ ধরনের অনলাইন ক্যাসিনো গেম খেলা বন্ধ করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসতে হবে তাহলেই হয়তো সম্ভব হবে এই সমস্ত অনলাইন গেম থেকে সবাইকে বিরত রাখা।

এবিষয়ে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, টাকা দিয়ে অনলাইন গেম খেলা সম্পূর্ণ অবৈধ। সাধারণত বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা অনেক ধরনের গেম মোবাইলে খেলে থাকে কিন্তু সেটা যদি স্কুল সময় হয় সেটাও অন্যায়। এ বিষয়ে পরিবার থেকে সচেতন হতে হবে। আর এজেন্টের মাধ্যমে টাকা দিয়ে গেম খেলাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে আমাদের জেলা পুলিশ সব সময় কাজ করে চলেছে। এরকম কাউকে পেলে তাকে আইনের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park