রিপন কান্তি গুণ, সিনিয়র নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি;
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলেজ চত্ত্বরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি ও মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। এতে কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. শিহাব খানের নেতৃত্বে মানববন্ধনে অংশ নেয় কলেজ ছাত্রলীগের সদস্যরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরে জানায়, কলেজের কম্পিউটার ল্যাব, সাইন্স ল্যাব ও লাইব্রেরি সারা বছরই তালা লাগানো অবস্থায় আছে। এমনকি ল্যাবের কম্পিউটার শিক্ষকরা নিজেদের বাসায় নিয়ে গেছেন। কলেজের সরকারি বরাদ্দের সিংহভাগ কোন কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করেন অধ্যক্ষ।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে দ্বাদশ শ্রেণির রবিবারে এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা বন্ধ রাখেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ব্যাহত হয়।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিজয় কুমার রায় বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধানের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। এছাড়াও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আগামী দশ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে তারা আবারও নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করার কথা জানায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজের কম্পিউটার ল্যাবটি সারা বছরই তালা দেওয়া থাকে। শিক্ষার্থীরা ল্যাব ব্যবহার করতে পারে না। শিক্ষকরা ল্যাবের অনেক কম্পিউটার-ল্যাপটপ নিজেদের বাসায় নিয়ে ব্যবহার করছেন। কলেজে লাইব্রেরি আছে তবে সেটিও সারা বছরই তালা লাগানো থাকে। সাইন্স ল্যাবরেটরিতেও কোনো উপকরণ নেই।ল্যাবের অবস্থাও একই রকম। পড়াশোনার যথাযথ পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলও খারাপ হচ্ছে। এছাড়া অধ্যক্ষ নিজেও নিয়মিত কলেজে আসেন না, ভালো-মন্দ কোন খোঁজখবরও রাখেন না।
শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, কলেজে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুরোপুরিই বন্ধ আছে। অধ্যক্ষের কাছে খেলাধুলার সামগ্রী চাইলে তিনি বলেন-এ বাবদ কোন বরাদ্দ নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিষয়ে বরাদ্দের অজুহাত দেন তিনি। কোন জাতীয় প্রোগ্রাম বা আলোচনা সভায় অধ্যক্ষ নিজেই উপস্থিত থাকেন না। অন্য শিক্ষকরা মিলে যতটুকু পালন করেন তাতে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পায় না। এছাড়াও বহিরাগতরা কলেজ চত্ত্বরে এসে মাদক সেবন করে শিক্ষার পরিবশে নষ্ট করছে কিন্তু এ বিষয়ে পদক্ষে নিতে অধ্যক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।
বরাদ্দের টাকা লুটপাটের বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও কম্পিউটার ল্যাব, সাইন্স ল্যাব ও লাইব্রেরি দ্রুত চালু করাসহ কলেজে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি জানায় তারা।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হোসেন চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বিজয় কুমার রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের অনেক দাবিই যৌক্তিক। আমারা শিক্ষকরাও এতে একমত পোষণ করি। অধ্যক্ষ মহোদয় ছুটিতে আছেন, উনি আসলে উনার সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব।