
হুমায়ূন কবীর ফরীদি, স্টাফ রিপোর্টারঃ
জগন্নাথপুর এর হাওর গুলোতে ডেমি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাইতো গরীব-দুঃখীদের মূখে আনন্দের হাসি দেখা দিয়েছে। প্রথম ধাপে সোনালী ফসল বোরো ধান কাটা শেষ হলেও এবার ডেমি ধান কেটে আরেক ধাপে গরীব-দুঃখীরা সোনালী ফসল বোরো ধান ঘোলায় তুলছেন।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর সহ ছোট-বড় ১৫ টি হাওরে এবার ২৫ হাজার ৩ শত ৮৫ হেক্টর জমিতে সোনালী ফসল বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে। গেল চৈত্র মাসের মাঝা-মাঝি সময় অর্থাৎ ১৫ তারিখ থেকে বৈশাখ মাসের ১৫/২০/ তারিখের মধ্যে সোনালী ফসল বোরো ধান কাটা শেষ করে বাম্পার ফলন ঘোলায় তুলেছেন অত্রাঞ্চল এর কৃষক কূল। সেই সাথে ধানের ভালো দাম পেয়ে বেজায় খুশি তাঁরা। ধানের উৎপাদন সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২৮ হাজার ১৯ মেট্রিকটন হলেও ফলন ছাড়িয়েছে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার। এদিকে ২৫ শে মে রোজ শনিবার সরেজমিনে হাওর ঘুরে দেখা গেছে ও জানাযায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সোনালী ফসল বোরো ধান কাটা শেষ হওয়ার পর কাটা ধানের গোরা ( নেড়া) থেকে ফের চারাগাছ জন্ম নিয়ে ডেমি ধানের থোড় বের হয়ে ১৫/২০ দিনের মধ্যে ধান পাকতে শুরু করেছে। যদিও মূল ধান কাটার পর হাওরে অবাদে গরু-বাছুর আর মহিষ ছেড়ে দেন রাখালেরা। তমধ্যে হাওরের মধ্য এলাকায় অর্থাৎ যেখানে গবাদিপশু যেতে পারেনি সেখানেই ডেমি ধান পাওয়া যাচ্ছে। আর এই ধান উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হাওর পাড়ের হত-দরিদ্র দিনমজুর পরিবারের নারী-পুরুষ দলবেঁধে কাটছেন। যাদের জমি ছিলনা তাঁরাও এখন কোনো প্রকার খরচা ছাড়াই অন্যের জমিতে ডেমি ধান কেটে সোনালী ফসল ঘোলায় তুলছেন। দিনমজুর কৃষক পরিবারে মূখে আনন্দের হাসি।
এ ব্যাপারে ডেমি ধান কাটারত হাওর পাড়ের হত-দরিদ্র দিনমজুর ফিরোজ মিয়া, জবর, সোনা মিয়া সহ একাধিক দিনমজুর কৃষক তাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে গিয়ে দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকাকে বলেন, আল্লাহ আমাদের দিকে চেয়েছেন বলেই এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হাওরে ডেমি ধান হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে এই ধান কেটে ১০/১২ মন ধান ঘোলায় তুলেছি। দিন-মাদান ভালা তাখলে আরও ধান তুলতাম পারমু। এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা আরো বলেন, সারা দিনে এক থেকে দেড়মণ ধান কাটতে পারি। নিজের জমি-নাই পরের ঘর কাম-কাজ করি খাই। জমির মালিকেরা ডেমি ধান খাটতে বাঁধা দিরানা,বরংচ পরামর্শ দিয়া সহযোগিতা করেরা।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকাকে বলেন, সুবর্ণ সম্ভাবনা ডেমি ধান। আবহাওয়া অনুকূলে তাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হত-দরিদ্র মানুষেরা এবার ঘোলায় ধান তুলছেন। জানতে পেরেছি কেয়ার প্রতি দুই /তিন মণ করে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ২০/২৫ দিনের মধ্যে ডেমি ধান কাটার উপযোগী হয়ে পড়ে। সার পাওয়া প্রয়োগ করলে কেয়ার প্রতি ৮/১০ মণ ধান পাওয়া যেত।