
দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ ডেস্কঃ প্রভাবে ও অতি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে এ জনপদের মানুষ পানির নিচে হাবুডুবু খাচ্ছে। বন্যা কবলিত অসহায় মানুষ জীবন ও যথাসামান্য সহায় সম্বল বাঁচানোর জন্য বানের পানির সাথে যুদ্ধ করছে। কানাইঘাটের প্রধান বাজারে এখন কোমর পানি। মমতাজগঞ্জ, জকিগঞ্জের শাহগলী, সড়কের বাজার সহ অনেক বাজারে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কালিগঞ্জ এলাকায় সুরমা ডাইক ভেঙে অব্যাহত পানি প্রবেশের ফলে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এখন পানিবন্দি। বিভিন্ন বাজারে বন্যার পানির কারণে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এ অবস্থায় সিলেট-৫ আসনের (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট)কে বন্যা দূর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট এম এ সালেহ চৌধুরী।
(৩১ মে) শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কানাইঘাট-জকিগঞ্জের প্রায় ৩ লাখ মানুষ এখন পানি বন্দি। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন এই অঞ্চলের মানুষ আজ দিশেহারা। নিম্ন আয়ের মানুষ দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোন ত্রাণ তৎপরতা কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সবাইকে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান জাতীয় পার্টি নেতা এডভোকেট সালেহ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারী ত্রাণ আসলে দলীয় নেতাকর্মী বাদ দিয়ে সামরিক বাহিনীর লোকজন দিয়ে বণ্টন করলে সাধারণ জনগন সে ত্রাণ পাবে। না হলে সেগুলোও নেতাদের পকেটে চলে যাবে। এছাড়াও তিনি জকিগঞ্জ কানাইঘাটের দলীয় নেতাকর্মী ও বিত্তবানদের বন্যা দূর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সিলেটে টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে পানি বন্দি হওয়া বাসিন্দাদের আশ্রয়ের জন্য সিলেটে ৫টি উপজেলায় মোট ৪৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানাগেছে জকিগঞ্জ,কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, ও কোম্পানীগঞ্জে- এই ৫টি উপজেলায় মোট ২১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে জকিগঞ্জে ৫৮টি, কানাইঘাটে ১৮, গোয়াইনঘাটে ৫৬, জৈন্তাপুরে ৪৮ ও কোম্পানীগঞ্জে ৩৫ ।
বুদবার রাত থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি বন্দি হয়ে পড়েন। এতে অনেকেই ঘড়-বাড়ি ছেড়ে রডআশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
এদিকে, সিলেটে বন্যা দুর্গত পাঁচ উপজেলায় বিতরণের জন্য শুকনা খাবার, চাল ও নগদ টাকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্যা দুর্গতদের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী সিলেটের পাঁচটি উপজেলার প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে যা অপ্রতুল।
এডভোকেট এম এ সালেহ চৌধুরীর নেতৃত্বে আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের সকল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে বন্যাকালিন ও বন্যা পরবর্তী পূনর্বাসনের জন্য বিশেষ ব্যাবস্হা করা হবে বলে জানান। এছাড়া এডভোকেট সালেহ চৌধুরী স্হানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদেরকে দ্রুত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়াও জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটকে বন্যা দূর্গত এলাকা ঘোষণা করার জুর দাবী জানান এবং চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের নিকট আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি