সুমন খান:
রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি বিআরটিএ অফিস যেন দুর্নীতির এক অব্যর্থ দুর্গে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের তীর সবার আগে গিয়ে লাগে ঢাকা মেট্রো-৩ শাখার উচ্চমান সহকারী আশিকুর রহমানের দিকে। তার বিরুদ্ধে বারবার ওঠা অভিযোগ শুধু অফিসকক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়; টেলিভিশন চ্যানেল, পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সব অভিযোগ উপেক্ষা করে তিনি এখনও বহাল তবিয়তে পূর্ণ পদে রয়েছেন।সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ—লাইসেন্স, ফিটনেস কিংবা যেকোনো অফিসিয়াল কাজ করতে গেলে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করা হয়। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ফাইল আটকে রাখা ও হয়রানি করা এখানে যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে,টেলিভিশন ও পত্রিকায় আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত রিপোর্টে একাধিকবার তার নাম উঠে এসেছে। তবু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় আশিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অতীতে যশোর ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আবার সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। জানা যায়, তার বাড়ি নোয়াখালীতে, ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের পাশেই।
অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। বারবার অভিযোগ করার পরও কেন ব্যবস্থা নেয়া হয় না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি ভুক্তভোগীদের আহ্বান—অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে আশিকুর রহমানসহ দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।উত্তরা দিয়াবাড়ি বিআরটিএ অফিসের দুর্নীতি আজ আর গোপন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কবে এই অফিস দুর্নীতি ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটমুক্ত হবে? কবে সাধারণ মানুষ প্রকৃত অর্থে হয়রানি ছাড়া সেবা পাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে জনতা।