
মোঃ আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের অষ্টম শ্রেণীর ১৪ বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করলেন দিঘলিয়া ইউনিয়নের কুমড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের ইলু মোল্লার ছেলে কালু মোল্লা এবং কালুর ভাবি মিলে,
স্কুলছাত্রীর ভাই ও বাবার সাথে কথা বলে জানা গেছে গত ২ অক্টোবর ওই স্কুল ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার পথে বড়দিয়া বাজার থেকে কালু মোল্লা ও তার ভাবি মিলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে স্কুলছাত্রী ১৪ কে ভারতে নিয়ে যায়, স্কুল ছাত্রীর বাবা জানাই তার মেয়ে কে ট্রেনে করে নিয়ে যাওয়ার সময় জানতে পারে তাকে দালালদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, তখন সে তার বাবার নাম্বারটি একজন লোকের মাধ্যমে তার কাছে এই বিপদের কথা জানান,
তখন বিষয়টি কালুর পরিবারকে জানালে তারা কোনো কর্ণপাত করে নাই,
এরপর লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন মেয়ের বাবা, অভিযোগের ভিত্তিতে লোহাগড়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২০ দিন পর বিভিন্ন চাপে দেশে নিয়ে আসে ওই স্কুলছাত্রীকে।
এরপরে স্থানীয় মনগড়া সালিশ মীমাংসায় মেয়ের পরিবারের উপর চাপ দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের হাতে মেয়ে ধরিয়ে দিলেন কুমাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের ইলু মোল্লা ও মাতুব্বর ইখলাস খা সহ আরো অনেকে,
স্কুল ছাত্রীর বাবা ও ভাই আরও বলেন ইখলাস খা আমাদের খবর দিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে বলেন হয়তো মেয়েকে বিয়ে দিয়ে যেতে হবে না হলে তোমাদের জিম্মায় নিতে হলে কাগজে স্বাক্ষর করে যেতে হবে, তখন চাপে পড়ে তিনি স্বাক্ষর করেন মেয়ে নেওয়ার জন্য।
একপর্যায়ে তাদের থেকে মেয়েকে স্বাক্ষর করে তাদের হেফাজতে নিয়ে নেন যেটা ছিলো ইচ্ছার বিরুদ্ধে,
ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা সাংবাদিকদের আরও বলেন,যে বাবা আমার মেয়ের সাথে যে ঘটনা ঘটিয়েছে ওরা আমি তার বিচার পাই নাই, আজ আমার টাকা নেই এবং মানুষ নেই বলে আমি সঠিক বিচার পাচ্ছি না, আপনারা আমার পাশে থাকলে আমি আইনের সহযোগিতায় আমার মেয়ের সাথে যা ঘটেছে এর সঠিক বিচার চাই,
এ বিষয়ে কালু মোল্লার ভাই রাঙ্গার মোল্লার সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওই মেয়ে পরিচয়ে আমাদের ফুফাতো বোন হয় তার সাথে আমার ভাইয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল আমার ভাই ওকে বিয়ের জন্য নিয়ে আসলে মেয়ের পরিবারের লোক পুলিশ পাঠিয়ে আমাদের হয়রানি করতেছিল তাই আমার ভাবি আর ভাই তাকে নিয়ে ভারতে চলে যাই,
এরপরে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে মেয়ের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তারা রাজি হয় নাই, তখন স্থানীয় সালিশ মীমাংসায় ইখলাস খান সহ মাতুব্বারদের দিয়ে ওই মেয়েকে তার বাবার কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ নাসির উদ্দীন এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন এ ধরনের ঘটনায় কোন সালিশ মীমাংসা নয়, এবং ওই স্বাক্ষর ও কোন কাজের না,
মেয়ের পরিবার মামলা করলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে